আশাশুনিতে মৎস্য ঘেরে সশস্ত্র হামলা, কর্মচারী কুপিয়ে আহত—একাধিক মামলার আসামী আটক
,সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাঁকড়াবুনিয়া বিলে একটি মৎস্য প্রকল্পে হামলা, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের ঘটনায় জহুরুল আকুঞ্জি (২৭) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে তাকে আটক করা হয় এবং পরদিন প্রয়োজনীয় পুলিশ প্রহরায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাঁকড়াবুনিয়া বিলে বাদীর প্রায় ৬০ বিঘা জমির ওপর একটি মৎস্য প্রকল্প রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৭–৮ জন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বাদীর কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদার টাকা না পেয়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৫ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রকল্পে অনধিকার প্রবেশ করে।
এ সময় প্রকল্পের কর্মচারী রাম দাস মাছ ধরায় বাধা দিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, জহুরুলের হাতে থাকা একটি ধারালো কুড়াল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায় কোপ মারার চেষ্টা করা হলে তা ডান চোখের উপরের কপালে লেগে গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে বেঁধে একটি ঘরের ভিতরে কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
পরবর্তীতে হামলাকারীরা টানা জাল ব্যবহার করে প্রকল্পের দুটি পুকুর থেকে আনুমানিক এক হাজার কেজি ভেটকি মাছ, যার বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা, লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি কর্মচারীর একটি বাটন মোবাইল ফোন, কয়েকটি জাল, টর্চলাইটসহ প্রায় ১৫ হাজার টাকার মালামালও নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। যাওয়ার সময় ঘটনাটি প্রকাশ করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে বাদী আহত রাম দাসকে উদ্ধার করে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
থানার রেকর্ড ও সিডিএমএস যাচাই করে দেখা গেছে, জহুরুল আকুঞ্জির বিরুদ্ধে আশাশুনি ও কালীগঞ্জ থানায় হত্যা চেষ্টা, চুরি, চাঁদাবাজি, ডাকাতির প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন ধারায় একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি একটি সংঘবদ্ধ চোর ও চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য এবং তার কোনো প্রকাশ্য পেশা নেই।
পুলিশ আরও আশঙ্কা করছে, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হতে পারে এবং বাদীর প্রাণনাশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে রাখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।