সাতক্ষীরার দুর্ধর্ষ ডাকাত বাহার আলী ঢাকায় গ্রেফতার
হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
উপ-সহকারী পরিদর্শক আতিকুর রহমান, সহকারি পরিদর্শক সরোয়ার হোসেনের দৃঢ়তায় র্যাব-৪ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুর রহমানের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান চালিয়ে ঢাকার মিরপুর আলু বদি উল্লাহ ঢালুতে থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরার কুখ্যাত ডাকাত বাহার আলীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেফতারকৃত শীর্ষ ডাকাত বাহার আলী সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকর কাটি গ্রামের আব্দুল জব্বারের পুত্র ও গ্রেফতারকৃত অপর শীর্ষ ডাকাত ইয়ার আলীর ভাই। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আনুমানিক বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা মহানগরীর পল্লবী থানার আলুব্দী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় প্রায় ২ ডজনের মত হত্যা ,অস্ত্র ,চাঁদাবাজি ,ছিনতাই ,ডাকাতি ,নাশকতা সহ একাধিক মামলায় পলাতক ছিল। গত ২৭ মার্চ রাত সোয়া ৭ টার দিকে র্যাব -পুলিশের যৌথ অভিযানে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের আলমগীর হোসেনের বাড়ি থেকে তার ভাই ইয়ার আলী ডাকাতকে ১ টি নাইন এমএম পিস্তল ,৫ রাউন্ড গুলি, ২ টা ওয়াকি টকি ১০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করে। এ সময় তাদের অপার আরেক সহযোগী ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে উজ্জ্বলকে ৯শ পিস ইয়াবা সহ আটক করে পুলিশ। এরপর হতে তার ভাই ডাকাত বাহার আলী এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। বর্তমান ডাকাত ইয়ার আলী ৭ দিনের রিমান্ডে আছে। কালিগঞ্জ থানার সন্ত্রাস ও ডাকাত কবলিত এলাকা কৃষ্ণনগরের শীর্ষ ডাকাত ইয়ার আলী ,বাহার আলী, রেজাউল সহ তাদের সহযোগীরা মিলে সাতক্ষীরা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চুরি ডাকাতি ছিনতাই করে আসছিল। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে হত্যা সহ একাধিক চুরি ,ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। এই চক্রের হাতে রয়েছে একটি শক্তিশালী হানি ট্রাপের ফাঁদ। সেই ফাঁদে অস্ত্রের মুখে ওই এলাকার কয়েকজন সুন্দরী ললনা ছাড়াও রয়েছে একাধিক কল গার্ল। তারা নিজেরা সেখানে যাতায়াত ছাড়াও অস্ত্রের মুখে তাদেরকে বিভিন্ন জেলা ,উপজেলার হাট ,বাজারের ব্যবসায়ী, ধনাঢ্য ব্যক্তি, চাকরিজীবী ,জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্পর্ক করে কাউকে বাকি টাকা দেওয়ার জন্য ,আবার কারো সঙ্গে ভালোবাসার অভিনয় করে বাড়ি ডেকে ওই চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হতো। পরে বাহার আলী, ইয়ার আলী চক্র এসে তাদেরকে চোখ বেঁধে নির্জনে জিম্মি করে তার ও পরিবারের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হতো। এইভাবে তারা অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল কৃষ্ণনগর ইউনিয়নকে। আটককৃত বাহার আলী কালীগঞ্জের পথে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সত্যেরে জানা গেছে।