1. admin@satkhira24tv.com : admin :
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে পিআইও অফিসে ঘুষ আদায় ও প্রকল্প তদারকিতে লোক ভাড়া

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে পিআইও অফিসে ঘুষ আদায় ও প্রকল্প তদারকিতে লোক ভাড়া

হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমানের ( পিআইও) পার্সেন্টেজ, ঘুষ আদায় ও প্রকল্প দেখ ভাল করা স্বপন ও বডিগার্ড আরশাদকে ঘিরে তোলপাড়। স্বপন কুমার মন্ডল অফিস সহকারি হিসাবে চাকরি করে উকশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। অথচ বছরের পর বছর বিদ্যালয়ে না গিয়েও হাজিরা খাতায় ঠিকই হাজিরা থাকে। এটা কি করে সম্ভব এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের। বিষয়টি নিয়ে ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক রেজাউল কবিরের নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান তাকে অনেকবার বলা হলেও সে শোনে না। স্থানীয় চেয়ারম্যান শওকত হোসেনের ভাই কেউ তাকে কিছু বলতে সাহস পায় না। হাজিরা খাতায় কিভাবে স্বাক্ষর করে তার কোন সদুত্তর মেলেনি। স্বপন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের (পিআইও) বেতনভুক্ত কোন কর্মচারী না হয়েও বছরের পর বছর নিজের স্কুল ফাঁকি দিয়ে পিআইও অফিস নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। ছুটির দিন শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে অফিসের গেট ও রুমের দরজা খোলা দেখে ভিতরে ঢুকে দেখা যায় পিআইও মফিজুর রহমান ছুটিতে বরিশালের বাড়িতে অবস্থান করলেও কথিত পিআইও খ্যাত স্বপন অফিসে কম্পিউটারে বসে ঠিকই কাজ করছে। ওই সময় পিআইও মফিজুর রহমানের নিকট ফোন দিলে তিনি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে এ প্রতিনিধিকে হুমকি ও গালাগালি দিয়ে ফোন কেটে দেয়। বাহিরের লোক হয়েও এইভাবে অফিসে বসে দিনের পর দিন কম্পিউটার নিয়ে কাজ করতে দেখা গেলেও অফিসে কর্মরত কর্মচারীরা অসহায়ের মত বসে থাকলেও তাদের প্রতিবাদের কোন জায়গা নাই। ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের দাড়িয়ালা গ্রামের নিরঞ্জন মন্ডলের ছেলে স্বপন কুমার মন্ডল ২০১২ সালে উকশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে নিয়োগ পায়। নিয়োগের আগে থেকেই ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী শওকত হোসেনের আশীর্বাদ পুষ্ট, আস্থাভাজন হয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসের অঘোষিত পিআইও হিসেবে প্রকল্প দেখাশোনা, ঘুষ আদায়ের ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করে আসলেও দেখার কেউ নাই। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ছায়া পিআইও হিসেবে কাজ এবং উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের প্রকল্প তদারকি এবং পার্সেন্টেজ আদায় করে আসছে। নাম না প্রকাশে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্যরা সাংবাদিকদের জানান। ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটতরাজ ঢাকতে স্বপনকে পিআই অফিসে ঢোকানো হয়। সেই থেকে পিআইও যেই আসুক তাকে ম্যানেজ করে আস্থাভাজন হয়ে বহাল তবিয়তে প্রায় দেড় যুগ এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বর্তমান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিস্টার পার্সেন্টিজ খ্যাত, দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর মফিজুর রহমান তার বাণিজ্য চালানোর এবং দেখ ভালোর জন্য রাখা তাকে বিশ্বাসী লোক হিসেবে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্প ও কাগজ কলমে টেন্ডার দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট কাজ পাওয়া ঠিকাদারকে তার বাহিনী দিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে সামান্য লভ্যাংশে কাজ কিনে নিয়ে কথিত পিআইও স্বপনকে দিয়ে দায়সারা কাজ করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করে আঙুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছে। খাল কাটার নামে বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়া ঠিকাদারের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় চেয়ারম্যানদের ম্যানেজ করে নামমাত্র খাল কেটে পানি তুলে কোটি টাকার প্রকল্প লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পে খড়িতলা হতে খুবদিপুর রাস্তায় রুহুল আমিনের বাড়ির পাশে টেংরা মারি খালের উপর ৮ মিটার দৈর্ঘ্যের কালভার্ট নির্মাণে ৩০,২৪,৬৩৪ টাকার প্রকল্পটি সাতক্ষীরার ইমন এন্টার প্রাইজ পায়। ‌ কাজটি কালীগঞ্জের রফিকুল ইসলাম নামক ঠিকাদার কিনে নিয়ে নেপথ্যে পিআইও মফিজ সপরের মাধ্যমে ১২/১৪ লক্ষ টাকায় দায় সারাভাবে শেষ করে রং দিয়ে সাজানো হলেও মাটি ভরাটের কাজটি স্থানীয় লোক করেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। বাকি টাকা ঠিকাদার রফিকের জোগসাযোগে স্বপনকে দিয়ে ভাগ বাটোওয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।এ ছাড়াও রতনপুর এবং ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের সংযোগস্থলে দুই ইউনিয়নের টেংরাখালি খালকাটা প্রকল্পে পাড় ছেটে খালে পানি তুলে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠলেও কত টাকার প্রকল্প এমন তথ্য জানাতে অস্বীকৃতি জানান পিআইও মফিজুর রহমান। এছাড়াও প্রকল্প স্থানে কত টাকার প্রকল্প তার কোন সাইনবোর্ডের হদীস মেলেনি। খোঁজ নিয়ে জানা যায় ওই খালের সম্পূর্ণ তদারকি এবং খালের কাজ পিআইওর ক্যাশিয়ার স্বপন করলেও কাগজ-কলমে আব্দুল হান্নান নামের এক ঠিকাদারকে দেখানো হয়েছে। এ ব্যাপারে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম খানের নিকট জানতে চাইলে তিনিও কিছুই জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানান। স্বপনের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে জানাবেন বলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও কোন ব্যবস্থা নেইনি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জুড়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। জনগণের টাকায় উপজেলা জুড়ে নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দের টাকার পরিমান জানতে চাইলে পিআইও মফিজুর রহমান প্রকল্প এবং বরাদ্দ অর্থ জানাতে অস্বীকৃতি জানায় । প্রকল্প ফাইল বাক্সবন্দী রাখে যাতে করে থলের বিড়াল বাহিরে না বেরুতে পারে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলা পরিষদ মাঠ ভরাটের জন্য প্রায় কোটি বরাদ্দের গুঞ্জন উঠলেও এ বিষয়ে পিআইও মফিজের নিকট এবং তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুজা মণ্ডলের নিকট জানতে চাইলে জানাতে অস্বীকৃতি জানান। প্রকল্পের টাকা লুটপাট এবং ঘুষ, দুর্নীতি এবং মহেশপুর ৩৫ লক্ষ টাকার কালভার্ট ১৫/১৬ লক্ষ টাকায় শেষ করে ঐ প্রকল্পের ঠিকাদারের বাড়িতে ভূরি ভোজের বিষয়টি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। এর আগে মফিজুর রহমান বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ( পিআইও) থাকা অবস্থায়”আগে ঘুষ পরে কাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজের”এমন বিভিন্ন শিরোনামে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, টিভি চ্যানেলে সংবাদ শিরোনাম হতে দেখা গেছে। এছাড়াও আরশাদ নামে নলতার আরো একজনকে মোটরসাইকেল চালক কাম বডিগার্ড হিসেবে তার অফিসে বছরের পর বছর রেখে প্রকল্প তদারকির নামে ঘুষ আদায়ের জন্য দৌড়ঝাপ করতে দেখা গেছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে ২৫ শতাংশ নগদ টাকা স্বপনের মাধ্যমে নেওয়া ছাড়াও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনপ্রতিনিধি ইউপি সদস্যদের ভাষ্য মফিজ প্রতি প্রকল্প থেকে অফিস ও সাংবাদিকদের নামে টাকা নেন। ফলে উন্নয়ন কাজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। পিআই ও মফিজের দুর্নীতি ঢাকতে বিভিন্ন উৎসবে খামে ভরে দালাল স্বপনের মাধ্যমে বিভিন্ন সাংবাদিকদের বাড়িতে পাঠানো হয় বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি অফিসে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই কিভাবে দুজন লোককে টাকা দিয়ে রাখা হয় এ প্রশ্ন উপজেলা ভাষায়। বিষয়টি জেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের তদন্তপূর্বক আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে উপজেলা বাসী।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2024 Zahidit News
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT