কালিগঞ্জে কাটুনিয়া রাজবাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহাব চূড়ান্ত বরখাস্ত
শিমুল হোসেন, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) ব্যুরো:
দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগ ও আন্দোলনের পর অবশেষে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কাটুনিয়া রাজবাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহাবকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাছিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।জানা যায়, গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহাবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহের প্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে এ কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, দায়িত্ব পালনকালে তিনি নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, যা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলার পীরগাজন গ্রামের মৃত সোলায়মান গাজীর ছেলে আব্দুল ওয়াহাব দীর্ঘদিন ধরে কলেজটিতে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিগত সময়ে নিয়োগ বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা এবং নারীঘটিত বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। তার এসব কর্মকাণ্ডে কলেজটি একপ্রকার অস্থিতিশীল ও বিতর্কিত পরিবেশে পরিণত হয়।এ সকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল একাধিকবার প্রতিবাদ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরে আসে। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগসমূহ যাচাই-বাছাই করা হয় এবং প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়।কলেজ কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহাবের সঙ্গে কলেজ সংক্রান্ত কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা একাডেমিক যোগাযোগ না রাখার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়।এদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তির ভাব লক্ষ্য করা গেছে। তারা আশা করছেন, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কলেজে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও অনিয়মের অবসান ঘটবে এবং একটি সুস্থ, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরে আসবে।অন্যদিকে, বরখাস্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অতীতে আরও অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। রতনপুর ইউনিয়নের সাতালিয়া এলাকার জামাই কুয়েত প্রবাসী আবু জাফর ও তার স্ত্রী সালমা বেগমের মালিকানাধীন একটি মৎস্য ঘের দখলের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে ওঠে। এ ঘটনাও স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করে।সংশ্লিষ্ট মহলের মতে,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এমন পদক্ষেপ সময়োপযোগী। তারা মনে করেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে অন্যদের জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।