খুলনা-৫ আসনে জমজমাট নির্বাচনী লড়াই: ভোটারদের প্রত্যাশায় উন্নয়ন ও সুশাসন
শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত গুরুত্বপূর্ণ খুলনা-৫ আসনে নির্বাচনী তৎপরতা জোরদার হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
জেলার তিনটি আসনের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এই আসনে ২০২৬ সালের জানুয়ারি অনুযায়ী মোট ভোটার প্রায় ৪ লাখ ২ হাজার ৭৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৫৪ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩ হাজার ৪৪৩ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ জন। শুধু ডুমুরিয়া উপজেলায় আনুমানিক ৩ লাখ ৩ হাজার ভোটার রয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে শহর ও গ্রামের সমন্বয়ে ভোটের বাস্তবতায় প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ বাড়িয়ে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে তারা সৎ, যোগ্য ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রতিনিধি চান।
ভোটারদের প্রত্যাশার কেন্দ্রে রয়েছে জলাবদ্ধতা নিরসন, ডুমুরিয়া পৌরসভা বাস্তবায়ন, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, খাল-নদী খনন ও সংস্কার, বেকার যুবক ও নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই সড়ক-যোগাযোগ ব্যবস্থা। পাশাপাশি শিল্পকারখানা ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন, আধুনিক রেলস্টেশন নির্মাণ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের দাবিও জোরালোভাবে উঠে এসেছে। শিক্ষক, ব্যবসায়ী, কৃষক, পরিবহন শ্রমিক ও তরুণ ভোটাররা এসব প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।
খুলনা-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির মোহাম্মদ আলী আসগর লবী, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অ্যাডভোকেট চিত্তরঞ্জন গোলদার এবং জাতীয় পার্টির মহিলা প্রার্থী শামীম আরা পারভীন ইয়াসমিন। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় বিএনপির মোহাম্মদ আলী আসগর লবী ও জামায়াতের অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছেন ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। তিনি সদর হাসপাতাল আধুনিকায়ন, দক্ষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকারদের দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান, মাদক নির্মূল এবং কৃষকদের ন্যায্য সার ও ফসলের দাম নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া সবজি সংরক্ষণের জন্য কোল্ডস্টোরেজ স্থাপন, নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অব্যবহৃত জমি কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথাও জানান। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও আইনি স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে তিনি ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং সুষ্ঠু ও আনন্দমুখর নির্বাচনের আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আসগর লবী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার হওয়ায় এ এলাকার মানুষের প্রত্যাশা তুলনামূলক বেশি। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান। নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং জনগণের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি। ভোটারদের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে জনগণের অভিযোগ জানানোর প্রয়োজন খুব বেশি থাকবে না—নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সবসময় মানুষের পাশে থাকতে চান। এবারের নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি এবং তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা মিজ সাবিতা সরকার জানান, সব ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোটকেন্দ্র দখল, জালভোট বা ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে খুলনা-৫ আসনে ভোটের মাঠ এখন বেশ জমজমাট। প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি আর ভোটারদের প্রত্যাশা ঘিরে নির্বাচনী আমেজ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।