সাতক্ষীরায় ‘লেডি ডাকাত’ মাসুরা বেগমকে ঘিরে আতঙ্ক, গ্রেপ্তারের দাবি জোরালো
স্টাফ রিপোর্টার,
সাতক্ষীরা জেলায় কথিত ‘লেডি ডাকাত’ মাসুরা বেগম (৩২) ও বাহার আলী, রহমান, মাসুদ তাঁর নেতৃত্বাধীন সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের আবু বক্কর গাজীর মেয়ে মাসুরা বেগম বর্তমানে একই এলাকার আব্দুস সোবহানের স্ত্রী হিসেবে পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুখ্যাত ডাকাত বাহার আলীর সঙ্গে মিলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তারা সাতক্ষীরা শহরের জামায়াত অফিস সংলগ্ন একটি গলিতে অবস্থিত মোঃ রবিউল ইসলামের তিনতলা বাড়ির নিচতলায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন। ওই বাসা থেকেই তারা ও তাদের সহযোগীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মাসুরা বেগম একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মানহানিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রশাসনকে বিতর্কিত করে নিজেদের অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, কালিগঞ্জ উপজেলার একটি ডাকাতির ঘটনায় প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে মাসুরা বেগমের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় চুরি হওয়া প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণ বিক্রির চেষ্টার বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন তিনি। পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, কালিগঞ্জ থানার একটি ডাকাতি মামলায় (এফআইআর নং-০৪, তারিখ: ০৬ জুলাই ২০২৫) তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, তার ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন অপরাধের পরিকল্পনা করা হয়। এসব নম্বরের কললিস্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুরো চক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার স্বামীও পূর্বে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং অতীতে মাদকসহ একাধিক ঘটনায় মাসুরা বেগম আটক হয়েছেন। তবে প্রতিবারই আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সাতক্ষীরা জেলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি-দ্রুত বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাসুরা বেগম ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে আবেদনপত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার (ডিজিএফআই, এনএসআই) উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।
সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষ এখন এই আতঙ্কের অবসান ঘটাতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।