1. admin@satkhira24tv.com : admin :
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ব্যবসায়ী আদিত্যকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি মাদারীপুরে থানা থেকে পালানো নারী আসামি ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার নড়াইলের নড়াগাতী এলাকায় ডাকাতি সংঘটিত ডাকাত চক্রের সদস্যসহ গ্রেফতার ৬ লুণ্ঠিত স্বর্ণ উদ্ধার নড়াইলে মানসিক প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার আসামি আকাশ বিশ্বাস গ্রেফতার চেয়ারম্যান মোশারফ হত্যা মামলা: ইয়ার আলী, বাহার আলী ও রেজাউলের জামিন বাতিল ও ফাঁসির দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন, পোস্টারিং কালিগঞ্জে মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিমের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগে তোলপাড় পটুয়াখালীতে আমতলীর শ্রমিক দল সভাপতিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা ডুমুরিয়ার শাহাপুর বাজার বণিক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন আগামী শনিবার: বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে সভাপতি পদপ্রার্থী একেএম জাব্বার ইকবাল কালিগঞ্জে জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন মোল্লাহাটে নারী শিশু প্রতিবন্ধি নির্যতন প্রতিরোধে জেলা পুলিশের আয়োজনে সচেতন সভা অনুষ্ঠিত।

চেয়ারম্যান মোশারফ হত্যা মামলা: ইয়ার আলী, বাহার আলী ও রেজাউলের জামিন বাতিল ও ফাঁসির দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন, পোস্টারিং

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

চেয়ারম্যান মোশারফ হত্যা মামলা: ইয়ার আলী, বাহার আলী ও রেজাউলের জামিন বাতিল ও ফাঁসির দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন, পোস্টারিং

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন হত্যা মামলার আসামি ইয়ার আলী, বাহার আলী ও রেজাউলের জামিন বাতিল, বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা শহর ও কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযুক্তদের ছবি ও মামলার তথ্যসংবলিত পোস্টার সাঁটানো হয়।

‘কালিগঞ্জ থানার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনকে হত্যা করা হয়। তাদের দাবি, হত্যা মামলার আসামি ইয়ার আলী, বাহার আলী ও রেজাউলের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, অস্ত্র, জমি দখল, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘদিনেও বিচারকাজ শেষ না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

বক্তারা আসামিদের জামিন বাতিল, বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।

এদিকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ‘বিচার চাই, ফাঁসি চাই’ শিরোনামে পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো হয়।

পোস্টারে অভিযুক্তদের ছবি ও তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
সেখানে দাবি করা হয়-
* ইয়ার আলী: ৩৫টি মামলার আসামি (অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের ছবি সংযুক্ত)।
* বাহার আলী: ৩১টি মামলার আসামি।
* রেজাউল: ৪১টি মামলার আসামি।
পোস্টারে আরও দাবি করা হয়, এই চক্রের সদস্যরা খুনের হুমকি, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। তাদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা এবং সংশ্লিষ্ট নথির বরাত দিয়ে দাবি করেন, কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকার মৃত বরকত উল্লাহ গাজীর ছেলে রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি ও মাদকসহ প্রায় ৪১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ, বিদেশি মুদ্রা ও একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

এছাড়া শংকরপুর গ্রামের ইয়ার আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদকসহ ৩৫টি মামলার অভিযোগ রয়েছে বলে মানববন্ধনে দাবি করা হয়। সম্প্রতি একটি ৯ এমএম পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, দুটি ওয়াকিটকি ও মাদকসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

একইভাবে বাহার আলী তরফদারের বিরুদ্ধে ডাকাতি, অস্ত্র, হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে অন্তত ৩১টি মামলা রয়েছে বলে দাবি করা হয়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও মানববন্ধনে উল্লেখ করা হয়।

মানববন্ধনে আরও দাবি করা হয়, মাসুরা বেগম নামের এক নারীর বিরুদ্ধে অজ্ঞান পার্টি, চুরি, ব্ল্যাকমেইল ও মাদকসংক্রান্ত পাঁচটি মামলা রয়েছে। শ্রীরামপুর এলাকার একটি স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত মালামাল বিক্রির সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও বক্তারা দাবি করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, একাধিক মামলার আসামি মো. হাফিজুর রহমান ওরফে ‘টেমি হাফিজ’ এই চক্রের অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতেন। তাদের দাবি, তিনি নিজেকে সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য পরিচয় দিয়ে অপরাধীদের সহযোগিতা করতেন এবং সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করতেন।

এছাড়া ‘রাজগুল’, ‘আনিসুর’ ও ‘পলাশ’ নামে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। বক্তাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণাও চালানো হয়।

মানববন্ধন থেকে মোশারফ হোসেন হত্যা মামলার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে রায় কার্যকর এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়।

তবে মানববন্ধন ও পোস্টারে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের পরিবারের কোনো বক্তব্য কিংবা সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2024 Zahidit News
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT