মেয়েকে ‘শেষবার্তা’ পাঠিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার
কাজী ফয়সাল, স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন একটি পুলিশ ফাঁড়ি থেকে শফিকুল ইসলাম (৪২) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে ফাঁড়ির ওয়াশরুমে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান সহকর্মীরা।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে দুপুর দেড়টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাজারবাগ পুলিশ লাইনে জানাজা শেষে মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়িতে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
শফিকুল ইসলাম ২০০৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। তিনি যাত্রাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার মৌটুপী গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মান্নান মল্লিকের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর আগে রাত আনুমানিক ৩টা ২৫ মিনিটে তিনি তার বড় মেয়ের মোবাইল ফোনে একটি খুদে বার্তা পাঠান। বার্তায় তিনি পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং সন্তানদের দেখভালের অনুরোধ জানান। ওই বার্তা পাওয়ার পর বড় মেয়ে একাধিকবার ফোন দিলেও তার কোনো সাড়া মেলেনি।
মৃতের চাচাতো ভাই পারভেজ মল্লিক জানান, শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। এ কারণে তাকে চিকিৎসকের কাছেও নেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রায়ই অনিদ্রাজনিত সমস্যার কথা বলতেন। একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন শফিকুল ইসলামের স্ত্রীর বড় ভাই আব্দুল হান্নান।
এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল বলেন, ফাঁড়ির ওয়াশরুমে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক হতাশা থেকেই তিনি চরম সিদ্ধান্তে পৌঁছান। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।