1. admin@satkhira24tv.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
দোয়া ও নফল ইবাদতে হোক বাংলা নববর্ষের সূচনা: আত্মজিজ্ঞাসার আহ্বান হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর নড়াইলে চৈত্র সংক্রান্তিতে শিবের আশীর্বাদ কামনায় ঐতিহ্যবাহী খেজুর সন্ন্যাসী অনুষ্ঠিত বীরগঞ্জে ৩ টি রাস্তা পাকা করণ কাজের উদ্বোধন করলেন_ এমপি মনজুরুল ইসলাম. পহেলা বৈশাখ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার মিলনমেলা: এমপি লবী কালিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে নানা আয়োজনে বাংলা বর্ষবরণ পালিত কালিগঞ্জে পহেলা বৈশাখ উদযাপন: পান্তাভাত ও বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে উৎসবের আমেজ আমতলীতে অটোরিকশার চাপায় প্রাণ গেল শিশুর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’ বছরে দুবার ফলন ও রপ্তানির স্বপ্নে বিভোর পলাশ কালিগঞ্জে ইমাম পরিবারের একমাত্র রাস্তা বন্ধ, মানবিক সংকটে অবরুদ্ধ জীবন নড়াইলের লোহাগড়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম তথ্য গোপন অনুদানের ৬০টি গরু গেল কোথায়

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে কোটি টাকা দুর্নীতি ?

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে কোটি টাকা দুর্নীতি ?

*কাজ না করেই বিল।
*ভুয়া প্রকল্প ও নামকাওয়াস্তে কাজ ।
*ভুয়া ভাউচারে,বিল বাণিজ্য।
*মিলি মিশে ঘুষ, ঠিকাদারি বাণিজ্য।
*তদারকির অভাব।

হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ ( সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের এডিপি, উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজে ব্যাপক নয়,ছয় ,অনিয়ম দুর্নীতি, স্বজন প্রীতি স্বেচ্ছাচারিতা ও আত্তীকরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্তবর্তী কালিন সরকারের সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক মুখ্য সচিব ড. আব্দুর রশিদের বাড়ির এলাকা হওয়ায় তার নাম ভাঙিয়ে বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন, ভাইপো, খালাতো ভাই মিলে পরস্পর যোগসাজশে জেলা সহ নিজ এলাকায় বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। আর এই সমস্ত প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নির্বাহী (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান এবং সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী মাসুদ, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ঠিকাদার এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির যোগসাজশে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোন রকম নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কাজ না করে, কোথাও নামমাত্র কাজ করে লুট হয়েছে কোটি টাকা। এসব কাজে শুধু ঠিকাদাররাই নয় খোদ জেলা পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারি প্রকৌশলী, সাবেক মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের মুখ্য সচিবের বন্ধু প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক তৈবুর রহমান, ভাইপো শিবলী রুমি, মামাতো ভাই মাহমুদুর রহমান সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ভাইপো শিবলী রুমি এ প্রতিনিধিকে জানান দাদা ভাই ক্লাবের টাকা নিলেও অন্যান্য প্রকল্পের বিষয়ে সে কিছুই জানেন না বা জড়িত না বিষয়টি জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের যোগসাজশে হয়েছে। প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক তৈয়বুর রহমান জানান এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রকল্পের ব্যাপারে বলেছি বটে তবে কোন দুর্নীতি অনিয়মের সঙ্গে আমি জড়িত না । বিষয়টি জেলা পরিষদের কর্মকর্তা ও ঠিকাদার বলতে পারবে । মামাতো ভাই মাহমুদুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন খুবদিপুর ঈদগাহ এবং কদমতলা জামে মসজিদের সে সহ-সভাপতি কাজের অনিয়ম-দূর্নীতির বিষয়ে ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। আমি কোন দুর্নীতি বা প্রকল্পের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত না বলে জানান।এ বিষয়ে জেলা পরিষদের কর্তৃপক্ষের নিকট কথা বলতে বলেন। ঠিকাদার আজমল হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান আমি নিয়ম মেনে কাজ করেছি। জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের নিকট এ বিষয়ে জানার জন্য বলেন। জানা গেছে সরকারি নীতিমালা জনস্বার্থে কাজ করার কথা থাকলেও তা না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজমল হোসেন সহ কয়েকজন ঠিকাদার নামমাত্র কাজ করলেও অনেক প্রকল্পে কাজ না করেই হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে সরকারি অর্থ। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের( ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন এ ধরনের অভিযোগ সম্পর্কে তার জানা নাই। হাতে নেওয়া বরাদ্দকৃত প্রকল্প গুলো তিনি দেখেছেন কিনা এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর মেলেনি। প্রকল্প অনুমোদনের ৩. ৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে নির্ধারিত প্রকল্প বাস্তবায়নের বাহিরে কোন কাজে এই অর্থ ব্যয় করা যাবে না। জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা বরাদ্দকৃত অর্থ বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন। সহকারি প্রকৌশলী মেহেদী মাসুদের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রকল্পে কি দেখতে হবে, কি করতে হবে সেটা সম্পূর্ণ আমার ব্যাপার। আপনারা সাংবাদিক যত পারেন তত লেখেন কিছু করতে পারবেন না। টাকার ভাগ সবাই পায়, আমি একা নই।
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অন্তবর্তী সরকারের সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব ড. আব্দুর রশিদের বাড়ি কালিগঞ্জ উপজেলার খড়িতলা এলাকায় হওয়ায় তার বন্ধু, ভাইপো, মামাতো ভাই পরিচয়ে পরস্পর যোগসাজশে সাতক্ষীরা জেলা তথা কালিগঞ্জ উপজেলার বিশেষ করে মথুরেশপুর ,রতনপুর এবং ধলবাড়ীয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তাঘাট, ঈদগাহ, মসজিদ, মন্দির, ক্লাব সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের আওতায় উন্নয়ন বরাদ্দ হাতে নেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খন্দকার ফরহাদ আহমেদ গত ২০/২/২৫ তারিখে প্রকল্প গুলোর অর্থ অবমুক্ত করেন। এই সমস্ত প্রকল্পের জন্য এডিপি ও স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নের জন্য সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের অধীনে অল্প কিছু প্রকল্পে দরপত্র আহ্বান ও বাকি সিপিপিসির মাধ্যমে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। তাছাড়া সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে জনস্বার্থের পরিবর্তে, ব্যক্তি স্বার্থে সরকারি বরাদ্দের অর্থ নাম মাত্র কাজ, আবার অনেক প্রকল্পের কাজ না করে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে টাকা। সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা যায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের খালাতো ভাই মাহমুদের বাড়ির পাশে খুবদিপুর ঈদগাহ উন্নয়নে ১০ লক্ষ টাকা, কদমতলা বাজার জামে মসজিদ উন্নয়নে ১৫ লক্ষ টাকা, বন্ধু তৈয়বুরের বাড়ি খড়িতলায় আলামিন জামে মসজিদ উন্নয়নে ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দের মধ্যে বারান্দায় লক্ষাধিক টাকার টাইলস বসানো হয়েছে, কৃষ্ণনগর উত্তর রহমতপুর বাইতুস সালাম জামে মসজিদ উন্নয়নে ১০ লক্ষ বরাদ্দের টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কালীগঞ্জের বাজার গ্রামের আজমল হোসেনের সঙ্গে মোটা অংকের টাকার ঘুষ,কমিশন বাণিজ্যে নামমাত্র কাজ করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও চাচাই নূরানী হাফিজুল কুরআন ও লিল্লাহি বোডিং উন্নয়নের ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ নিয়ে ৫ লক্ষ টাকার মধ্যে কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। সিপিপিসির আওতায় চক রামগোবিন্দপুর বাইতুর নূর জামে মসজিদ উন্নয়নের নামে ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ৮০ হাজার টাকা পেয়েছেন বলে সভাপতি বদর আমিন জানান। নিত্যানন্দপুর জামে মসজিদ, খুবদিপুর সরদারপাড়া জামে মসজিদ, বাহাদুরপুর জামে মসজিদ, পিরগাজন পূর্ব পাড়া জামে মসজিদ, মুড়োগাছা কেন্দ্রীয় মডেল জামে মসজিদ, আড়ংগাছা উত্তরপাড়া বাইতুল ফালাহা জামে মসজিদ, খড়িতলা ধাপুয়ার চক বায়তুল আসকা মসজিদ, চকরাম গোবিন্দপুর বাইতুন নূর জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর কাশেমুল উলুম সুলতানিয় হাফিজিয়া মাদ্রাসা, দারুল উলুম চৌমুহনী ফাজিল মাদ্রাসা, শিববাড়ি মন্দির সহ এ ধরনের অনেক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ২/৩ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ হলেও হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ৮০ হাজার টাকার বেশি পায়নি এবং অনেক প্রকল্পের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি । বাকি টাকা সুবিধা ভোগীদের কমিশন বাণিজ্যে ভাগ বাটোয়ারা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টতা এ প্রতিনিধি কে জানান। যেমন মথুরেশপুর ইউনিয়নে জামিয়া ইমদাদিয়া তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার উন্নয়নের নামে ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকলেও এই নামে কোন প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও মহৎপুর পাবলিক কবরস্থানের বাউন্ডারি এবং উপজেলা অফিস উন্নয়নের জন্য ১৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকলেও কবরস্থানের জন্য নামমাত্র কয়েক লক্ষ টাকার কাজ করলেও উপজেলা ভূমি অফিসের কাজের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। মহিশকুড় আবু তাহেরের বাড়ি হতে টুপদিয়া মাদ্রাসা অভিমুখে সড়কের নামে প্রকল্পের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। নিজদেবপুর মোল্লার বাড়ি হতে তরফদার বাড়ি অভিমুখে রাস্তায় ২ ‘লক্ষ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু তাহের জানান একই প্রকল্পে ৬ মাস আগে উপজেলার এডিপির অর্থায়নে আমি ইটের সোলিং রাস্তা করেছি অথচ এই একই নামে জেলা পরিষদের প্রকল্প দেখিয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। নিত্যনন্দপুর ঈদগাহ মোড় হতে নিজদেবপুর বিএফএস রোড পর্যন্ত ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকলেও এই প্রকল্পের কোন অস্তিত্ব খুঁজে না পাওয়া গেলেও টুপদিয়া ঈদগাহ উন্নয়নের জন্য ৩ হাজার ইটের সলিং করা হয়েছে বাকি কাজ আসন্ন ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রব তার নিজের অর্থায়নে কাজ করে দিচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানান। প্রকল্পের সভাপতি আমজাদ হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি ঈদগাহার কথা বললেও মূল প্রকল্প সম্বন্ধে কিছুই জানেন না। নিত্যানন্দপুর দাদাভাই ক্লাবের নামে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক মুখ্য সচিব ড. আব্দুর রশিদের ভাইপো শিবলী রুমি নিত্যানন্দপুর ঈদগাহ রোডে দাদাভাই ক্লাবের নামে ২ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা তুলে আত্মসাৎ করলেও ক্লাবে এক টাকাও খরচ করেনি বলে ক্লাবের কর্মকর্তা মোবারক হোসেন সহ অন্যান্যরা জানান। তারা বলেন এই সমস্ত প্রকল্পের টাকায় তার ভাইপো মোটর সাইকেলের মডেল পরিবর্তন হলেও এলাকায় কোন উন্নয়ন হয়নি। বরং তার বন্ধু আত্মীয়-স্বজনরা একজন ভালো মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তার কাছ থেকে জেলা জুড়ে উন্নয়নের নামে বিভিন্ন প্রকল্প এনে জেলা পরিষদের মাধ্যমে কোটি টাকা লুটপাট করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। এইভাবে সাতক্ষীরার ৭ টি উপজেলায় উন্নয়ন বরাদ্দের নামে বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা , ঈদগাহ, রাস্তাঘাট কালভার্টের নামে টাকা বরাদ্দ নিয়ে জেলা পরিষদের কর্মকর্তা, কর্মচারী ,ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো মিলেমিশে ভাগ বাটোয়ারার মাধ্যমে নয় ছয় লুটপাটের রাজত্ব চালিয়ে আসলেও দেখার কেউ নাই। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতির তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানিয়েছে উপজেলা বাসী।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2024 Zahidit News
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT