বিদেশে পাঠানোর নামে মানব পাচার: সাতক্ষীরায় র্যাবের অভিযানে আসামি গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ
আশাশুনি সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের গোদাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ কবির হোসেন গাজি (৫০) গত ২২ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে মানব পাচার দমন আইনে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ২০২৪)। মামলায় মোঃ পলাশ হোসেনসহ মোট তিনজনকে আসামি করা হয়।
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, সৌদি আরব প্রবাসী ১নং আসামি মোঃ পলাশ হোসেনের সঙ্গে বাদীর ছেলে উজ্জ্বলের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে ২ ও ৩ নং আসামিরা প্ররোচনা দিয়ে বাদীর মেয়ের জামাতা মোঃ নাছির উদ্দীন (২৮)-কে বিদেশে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এ জন্য মোট ৫ লাখ ৩১ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে ভিসা প্রক্রিয়ার কথা বলে আরও ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ৬ লাখ ১১ হাজার টাকা আসামিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভিকটিমকে বিদেশে পাঠানোর পর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে কোনো খোঁজ না মেলায় এবং আসামিদের কাছ থেকেও সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় ভিকটিমকে বিদেশে বিক্রি বা পাচার করা হয়েছে—এমন গুরুতর সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে থানায় মামলা করতে গেলে কর্তৃপক্ষ উচ্চ আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দিলে বাদী মানব পাচার দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মোঃ পলাশ হোসেনকে গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে র্যাব-৩ এর একটি দল গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার উপ-পরিদর্শক (দারোগা) অনাথ মিত্রের মাধ্যমে থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার সকালে সাতক্ষীরা আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।
এ ঘটনায় মানব পাচার দমন আইনের ৭ ও ৮ ধারায় বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।