অন্ধ ও প্যারালাইজড ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ: কালিগঞ্জ ভূমি অফিসে দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় ভূমি অফিসের দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সরকারি নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এক অন্ধ ও প্যারালাইজড ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রতনপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার (নায়েব) রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রতনপুর ইউনিয়নের কাশীশ্বরপুর গ্রামের মৃত কৃষ্ণপদ বিশ্বাসের পুত্র অন্ধ ও প্যারালাইজড রমেশ চন্দ্র বিশ্বাস রতনপুর বাজারে পেরি ভুক্ত সরকারি জমিতে তার ৬ ফুট চওড়া ও ৯ ফুট লম্বা একটি দোকান ডিসিআর করার জন্য তহশিলদার রেজাউল ইসলামকে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করেন। পরবর্তীতে দোকান সংস্কারের অজুহাতে আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করা হলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান ভুক্তভোগী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নায়েব ডিসিআর প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া নিজ মালিকানাধীন ৩৪ শতক জমির খাজনা/দাখিলা কাটতে গেলে ১২ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে নায়েব রেজাউল ইসলাম তার কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলে তাকে অফিস থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করেন রমেশ চন্দ্র বিশ্বাস। পরবর্তীতে অফিস পিয়নের মাধ্যমে ৯ হাজার টাকা প্রদান করার পর মাত্র ৪ হাজার ৪৩ টাকার দাখিলার রশিদ দেওয়া হয়।
রমেশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে তিনি অন্ধ ও প্যারালাইজড হয়ে পড়েন। অসুস্থ অবস্থায় স্ত্রী রত্নাশীলের সহযোগিতায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে উপস্থিত হলে সদ্য বদলি হওয়া এসিল্যান্ড মঈনুল ইসলাম খান অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তহশিলদারকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ঘুষের টাকা ফেরতের নির্দেশ দেন।
তবে নির্ধারিত সময়েও টাকা ফেরত না দিয়ে ভূমি অফিসের নাজির দেবব্রত ও সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন অজুহাতে ভুক্তভোগীকে হয়রানি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি জানানো হলে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তহশিলদার, নাজির, সার্ভেয়ার ও পিয়নদের সমন্বয়ে একটি সংঘবদ্ধ ঘুষচক্র সক্রিয় রয়েছে, যার প্রভাব উপজেলা ভূমি অফিস পর্যন্ত বিস্তৃত।
এ বিষয়ে তহশিলদার রেজাউল ইসলাম প্রথমে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে বলেন, “আমি টাকা ফেরত দেবো বলেছি, সাংবাদিকদের জানানোর দরকার ছিল না।”
অন্যদিকে উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির দেবব্রত নিজেকে নির্দোষ দাবি করে পুরো দায় তহশিলদারের ওপর চাপান।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মঈনুল ইসলাম খান এ প্রতিনিধিকে জানান, তিনি বিষয়টি তদন্ত করে নায়েবকে ঘুষের টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।
বর্তমানে ডিসিআর না পাওয়া ও ঘুষের টাকা ফেরতের দাবিতে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন রমেশ চন্দ্র বিশ্বাস ও তার স্ত্রী। তারা বিষয়টি তদন্তপূর্বক জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।