কালিগঞ্জে গরু পেটানোকে কেন্দ্র করে রক্তাক্ত তাণ্ডব
রহিম-করিম গ্যাংয়ের সন্ত্রাসী হামলায় নারীসহ ৪ জন আশঙ্কাজনক
ফজলুল হক কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় গরু পেটানোকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত হয়েছে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা। পূর্ব বিরোধের জেরে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী আব্দুর রহিম, আব্দুল করিম ও তাদের মাদকসেবী ছেলেদের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলায় নারীসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শ্রীকলা গ্রামে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি গরু দড়ি ছিঁড়ে পাশের ক্ষেতে ঢুকে পড়লে অপর পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে গরুটিকে নির্মমভাবে পেটাতে শুরু করে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে মুহূর্তের মধ্যেই পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুল করিম তার ছেলে ইমরান ফরিদ হোসেন এবং আব্দুর রহিম তার ছেলে ইয়াসিন মহসিনসহ একদল সশস্ত্র ব্যক্তি লাঠি, রড, দা, কোদাল ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে নিরীহ মানুষের ওপর হামলা চালায়। এতে মোমিন আলী, ছকিনা খাতুন, মাসুম বিল্লাহ, সাইদুর রহমান ও হালিমা খাতুন গুরুতরভাবে আহত হন। তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে নাহিদুজ্জামান নয়ন ও রায়হান হোসেনকেও মারধর করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো কবরস্থান এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং কয়েকজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে শ্রীকলা গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রহিম–করিম গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাস ও মাদক কারবারের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান।