কালিগঞ্জে ‘মব’ সৃষ্টি করে অধ্যাপিকার বাড়ি দখলের অভিযোগ”ভাঙচুর, উচ্ছেদের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার
শিমুল হোসেন কালিগঞ্জ সাতক্ষীরা ব্যুরো।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার শ্রীকলা গ্রামে এক কলেজ অধ্যাপিকার ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে ‘মব’ সৃষ্টি করে দখল, ভাঙচুর ও সপরিবারে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। এ ঘটনায় জান্নাতুল বুশরা (৩৪) বাদী হয়ে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন।আদালতে দাখিলকৃত আরজি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীকলা গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের কন্যা জান্নাতুল বুশরা ২০২২ সালে তার পিতার কাছ থেকে ০.০৮৭৪ একর জমি (খতিয়ান নং-২৫-৮৭৮, আর.এস-১১৬৬ দাগ) ক্রয় করেন। পরবর্তীতে সেখানে একটি দোতলা ভবন নির্মাণ করে দীর্ঘ পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে পরিবারসহ বসবাস করে আসছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদীর ভাই মো. আব্দুস সবুর (শিমুল), তার স্ত্রী মহসিনা, আব্দুল খালেকসহ একটি প্রভাবশালী চক্র কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সম্পত্তিটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শেখ ফিরোজ আহম্মেদের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জান্নাতুল বুশরার বাড়িতে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা বাড়ির সীমানায় প্রবেশ করে বাগানের গাছপালা কেটে ফেলে, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং ওয়াশরুমের তালা ও ঘরের দরজা ভেঙে অনধিকার প্রবেশ করে বাড়িটি দখলে নেয়।এক হৃদয়বিদারক অভিযোগে জান্নাতুল বুশরা জানান, গত ৩ এপ্রিল তার পিতা মারা গেলেও তাকে বাবার শেষ মুখটুকু পর্যন্ত দেখতে দেওয়া হয়নি। তিনি পিরোজপুর জেলার ঘোষকাটি কলেজে অধ্যাপনা করার সুবাদে কর্মস্থলে অবস্থান করায় সেই সুযোগে পরিকল্পিতভাবে এই দখলবাজি চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার প্রাণভয়ে নিজ ঘরের ভেতর কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত শেখ ফিরোজ আহম্মেদ প্রকাশ্যে বলেন, “এখানে কোনো সরকারি আইন নেই। আমি যা বলব তাই হবে। তোমাদের সব কাগজপত্র ভুয়া।” এছাড়া হামলার ভিডিও ধারণ করতে গেলে ভিডিওকারীকে গলায় পা দিয়ে জিহ্বা টেনে বের করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।মামলার সাক্ষী রেহানা পারভীন ও মাকছুরা পারভীন সাংবাদিকদের জানান, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে পরিকল্পিতভাবে এই দখলবাজি চালানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী জান্নাতুল বুশরা অভিযোগ করে বলেন, থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমার ক্রয়কৃত ও দখলীয় ঘরে কালিগঞ্জ থানার ওসি মো. জুয়েল হোসেন কোন আইনে আসামিদের থাকার অনুমতি দিলেন? ২৫ এপ্রিল জমির কাগজপত্র দেখার কথা বললেও তা না দেখে দখলবাজদের আমার ঘরে উঠতে দেওয়া হলো কীভাবে?”এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুয়েল হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমার জানা আছে। এসআই জাকির হোসেন তদন্ত করছেন।আগামী ২৫ এপ্রিল উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে বসতে বলা হয়েছে। এদিকে থানার সালিশ বৈঠকে উপস্থিত কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, “মব সৃষ্টি করে এ ধরনের দখলদারিত্ব সম্পূর্ণ অন্যায়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
বর্তমানে শ্রীকলা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। ন্যায়বিচারের আশায় এখন দিন গুনছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।