সাতক্ষীরা’য় পাওনা টাকার কথা বলে ডেকে নিয়ে নির্যাতন, টাকা ছিনতাই ও ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার পায়রা ডাঙ্গা এলাকায় পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে এক যুবককে মারধর, আটকে রাখা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ শরিফুল ইসলাম (৪০) বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি সদর উপজেলার বকচরা এলাকার মৃত মোকছেদ গাজীর ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে সকাল আনুমানিক ১১টা ৩৮ মিনিটে পায়রাডাঙ্গা এলাকার আশরাফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে কল করে শরিফুল ইসলামকে পাওনা টাকা নেওয়ার জন্য পায়রাডাঙ্গা ব্রিজ এলাকায় যেতে বলেন। পরে শরিফুল ইসলাম মোটরসাইকেলযোগে সেখানে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক ধরে স্থানীয় একটি বেকারির ভেতরে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে তাকে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। নির্যাতনের পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে তাকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার স্ত্রী লাভলী খাতুন স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করেন।
শরিফুল ইসলামের দাবি, নির্যাতনের সময় তার কাছে থাকা নগদ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে পায়রাডাঙ্গা এলাকার আশরাফুল ইসলাম (২৮), মাহবুর রহমান (৪০), আক্তার হোসেন (৪২), মোঃ মিঠু (৩২) ও রাশিদুল ইসলাম (৪০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সাক্ষী হিসেবে ভুক্তভোগীর স্ত্রী লাভলী খাতুন, মোঃ সবুজসহ স্থানীয় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। তবে থানা পুলিশ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।