স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে সাতক্ষীরা-৩ আসনের এমপি রবিউল বাশারের কাছে স্মারকলিপি
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অনুদানভুক্ত ও অনুদানবিহীন সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করণের দাবিতে সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য হাফেজ মোহাম্মদ রবিউল বাশার এর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট, আশাশুনি উপজেলা শাখা।
সোমবার আশাশুনিতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করণের ঘোষণা দিলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হাজার হাজার মাদ্রাসা শিক্ষক মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, ১৯৭৮ সালের অধ্যাদেশের আওতায় আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তর অনুমোদনের পর ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড প্রায় ১৮ হাজার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি প্রদান করে। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন সরকার শিক্ষকদের ভাতা প্রদান এবং ২০০১ সালে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তি চালু করলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করা হয়নি।
সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, চাকরির নিরাপত্তা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা না থাকায় শিক্ষার মান উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। এতে মেধাবী শিক্ষকরা এ পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এবং শিক্ষার্থীরাও আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বিত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তারা দ্রুত জাতীয়করণের ঘোষণার বাস্তবায়ন এবং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটি আশাশুনি উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা গোলাম মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ ছাইফুদ্দীনসহ বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ।
সংগঠনের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, মাননীয় সংসদ সদস্যের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সুপারিশের মাধ্যমে বিষয়টি জাতীয় সংসদ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যথাযথভাবে উপস্থাপিত হবে এবং শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়িত হবে।