কালীগঞ্জে নলতা আহছানিয়া মিশন এতিমখানায় এতিম নাই, ভুয়া বিল ভাউচারে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
বছরের পর বছর এতিমখানা ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু দেখিয়ে সরকারি অর্থ বরাদ্দের টাকা তুলে লুটপাট, আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনে এতিমখানার কমিটির লোকজনের বিরুদ্ধে এই টাকা তুলে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সুবিধা বঞ্চিত শিশু ও এতিম দেখিয়ে ভুয়া, বিল, ভাউচার দাখিল করে বরাদ্দের টাকা প্রতিষ্ঠানটির কতিপয় অসাধু পরিচয় দানকারী ও সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্তা ব্যক্তিরা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এতিম খানাটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানটির দরজা ভেতর থেকে তালা ঝুলানো। ভিতরে ৫/৭ জন ছেলে খেলা করছে। বাইরে একটি সাইনবোর্ড ঝুলানো। পরিত্যক্ত পড়ে আছে এতিম খানার রুমগুলো । দ্বিতীয় তলায় বিছানা
গুছিয়ে খেলায় ব্যস্ত ৬/৭ জন ছেলে। এতিম খানায় কোন শিক্ষককে দেখা মেলেনি। দুপুরে খাওয়ার জন্য কাঁচাকলা ,ছোট ছোট পাঙ্গাস মাছ কেনা হয়েছে ৬-৭ জনের খাওয়ার মত। তবে পাশের মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষক মশিউর রহমান জানান এখানে এতিম বলতে কাহারো বাবা আছে ,কাহারো মা আছে আর বাকি ছাত্ররা হেফজখানা ও মাদ্রাসা থেকে এখানে তালিকাভুক্ত করা হয়। সামনের আরেকটি ভবন এতিমখানা হিসেবে দেখানো হলেও সেখানে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করেছে এতিমখানা কমিটি। ৬২ জন এতিম ,সুবিধা বঞ্চিত শিশুর বিপরীতে ৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকা অর্থ বছরের জুন পর্যন্ত উত্তোলন করেছেন। বাকি অর্থ বছরের ৬ মাসের টাকা এখনো আসেনি তবে খুব তাড়াতাড়ি পাওয়া যাবে বলে সমাজ সেবা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ জানান। ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে প্রথম কিস্তির বরাদ্দের টাকা উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে। তবে এতিমখানা টি সমাজ সেবা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ এখনো পরিদর্শন করেননি বলে জানালেও খুব তাড়াতাড়ি পরিদর্শনে যাবেন বলে এ প্রতিনিধিকে জানান। এতিমখানায় এতিম নাই এ ঘটনা প্রসঙ্গে নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের সভাপতি মাহফুজুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান অল্প কয়েকদিন মাত্র আমরা নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পেয়েছি। আমরা খুব তাড়াতাড়ি বিষয়টি দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। একই প্রসঙ্গে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ডাঃ নজরুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি প্রথমে কোন অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে তিনি জানান আমরা সবেমাত্র নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বে নিয়েছি। সার্বিক বিষয়ে খোঁজ নিয়ে বিষয়টির সুরাহা করা হবে।