দুমকিতে গ্রেফতার ও জামিন বাণিজ্যের হিড়িক, দিশেহারা অসংখ্য পরিবার
সাকিব হোসেন পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর দুমকিতে বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর মামলার বাদী ও উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম মর্তুজার বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, গ্রেফতার ও জামিন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছে। গত ৫ আগস্টের পর দুমকি থানায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৮৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও আড়াইশ ব্যক্তিকে আসামি করে মামলাটি করেন মর্তুজা। ওই মামলায় ইতিমধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, বাকিরা জামিনে রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দিলে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে এবং পরে জামিনে ছাড়ানোর আশ্বাস দিয়ে আবারও অর্থ নেওয়া হচ্ছে।
মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম বাবুল অভিযোগ করেন, ২০ হাজার টাকা দিতে অপারগতা জানানোয় তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভা থেকে বাইরে ডেকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। একই ইউনিয়নের রাকিব হাসান বাবু নামের এক যুবককে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। নগদ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও বাকি টাকা না দেওয়ায় পরিবারটি হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে জানান বাবুর মা শাহনাজ বেগম।
এ ছাড়া মুরাদিয়া, শ্রীরামপুর, আঙ্গারিয়া ও লেবুখালী ইউনিয়নের বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের ট্যাগ দিয়ে মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি মর্তুজার প্রতিবেশী ইউসুব মোল্লাকে কোনো মামলা ছাড়াই গ্রেফতার করে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আদালতে চালান দেওয়া হয় বলে পরিবারের ধারণা। অন্যদিকে, মর্তুজার আপন ভাই মোস্তাকিম বিল্লাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হয়েও এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, অথচ মর্তুজা অন্যদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান জানান, যথাযথ প্রমাণ পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মামলার বাদী গোলাম মর্তুজা তার বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, তার যোগদানের আগে মামলাটি হয়েছে। বাদী টাকা আদায়ের সঙ্গে জড়িত—এমন কোনো অভিযোগ থানায় আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তা প্রেরকঃ-
সাকিব হোসেন
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
তারিখঃ৬/৩/২০২৬ইং