1. admin@satkhira24tv.com : admin :
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৭:০২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
জিডি করা হারানো ২৩টি মোবাইল উদ্ধার, মালিকদের হাতে তুলে দিলেন——– পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ একাধিক মামলার আসামি গ্রেফতার কালিগঞ্জে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত কালিগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন, চলাচলের পথ উন্মুক্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি দিনাজপুর বীরগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে চলবেই, সাজাপ্রাপ্ত ৪ জন কারাগারে। জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ডুমুরিয়ায় ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬’ অনুষ্ঠিত ডুমুরিয়ায় সরকারি জায়গার মাটি কাটার অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নড়াইলে বজ্রপাতে দুই জন নিহত ও যাত্রীবাহী বাস উল্টে নারী-পুরুষ, শিশুসহ আহত ২০ কালিগঞ্জের ভাড়াশিমলায় জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী ও ওয়ার্ড কার্যালয়ের উদ্বোধন কালিগঞ্জে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষকে একসঙ্গে অবস্থানকালে আটক করে থানা পুলিশ

ঘুষ কেলেঙ্কারি ঢাকতে সাতক্ষীরার এলজিইডির হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজের প্রত্যয়ন নিয়ে আয়নাবাজি

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

ঘুষ কেলেঙ্কারি ঢাকতে সাতক্ষীরার এলজিইডির হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজের প্রত্যয়ন নিয়ে আয়নাবাজি

হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ ( সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
অফিসে বসে গুনে গুনে ঘুষের টাকা নেওয়ার ভিডিও ও খবর ভাইরালকে কেন্দ্র করে আলোচিত এলজিইডির হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত ও বিভাগীয় মামলার তদন্ত ঠেকাতে প্রত্যয়ন পত্রের আয়নাবাজি নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু। নিজের অপকর্ম ঢাকতে প্রথমে অফিসে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে ফেলেন। যাতে করে পরবর্তীতে ঘুষ নেওয়ার দৃশ্য কেউ দেখতে না পারে। এ যেন ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাইনি। এরপরও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য প্রকাশিত, সংশ্লিষ্ট ঘুষ দেওয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের নাম ভাঙিয়ে প্রত্যয়ন পত্র আদায় করে নেওয়া হয়েছে। এই ভাবে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিসের ঘুষখোর মোস্তাফিজুর রহমান প্রত্যয়ন পত্র নিয়ে দৌড়ঝাপ করে বেড়াচ্ছেন। দেশব্যাপী প্রকাশ্যে অফিসে বসে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল হওয়া ও বিভিন্ন সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল সহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত খবরকে মিথ্যাচার আখ্যা দিয়ে নিজের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে নিজের অফিসের সহকারী চঞ্চল কুমার দাসের উপর দায় চাপিয়ে নিজে সাধু সাজার চেষ্টা করে যাচ্ছেন । মোস্তাফিজুর রহমান যোগদানের আগে দেশের যে সমস্ত জেলা, উপজেলায় চাকুরীকরা কালীন সময়ে ঘুষখোর খ্যাত মোস্তাফিজ সেখানেই ঠিকাদার, ইউপি সচিব , চেয়ারম্যানদের নিকট থেকে ঘুষ নিয়ে সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। তালায় এক ঠিকাদারের নিকট থেকে ধার নেওয়া টাকা চাইতে গেলে ফেরত না দেওয়ার ধান্দায় তার সাথে মোবাইলে কথোপকথনের রেকর্ড ধারণ করে উল্টো তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করে। এ ঘটনায় তালা উপজেলার সাংবাদিক সমাজ ফুঁসে ওঠে। পরে আন্দোলনের মুখে তাকে বদলি করা হয়। সেখান থেকে বদলি হয়ে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ঘুরে অবশেষে কালীগঞ্জে যোগদানের খবরে কালিগঞ্জ এলজিইডি অফিসের সমস্ত কর্মকর্তা কর্মচারীরা নড়েচড়ে বসে। ঐ সময় হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজ যাতে যোগদান করতে না পারে সে লক্ষ্যে কালিগঞ্জ এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান কার্যালয়ে গণস্বাক্ষরিত আবেদন করেন। এরপরও রহস্যজনক কারণে যোগদান করেও বদলাইনি মোস্তাফিজুর রহমানের ঘুষ গ্রহণের স্বভাব অভ্যাস। অফিসে লাগানো সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ঘুষের ভিডিও ফাঁসের জন্য তার অফিসের সহকারি চঞ্চল কুমার দাসকে অভিযুক্ত করেন । তবে সে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে অফিস সহকারি চঞ্চল কুমার দাস সাংবাদিকদের জানান এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এর সাথে তিনি জড়িত না তদন্ত করলে মূল বিষয় বেরিয়ে আসবে। তিনি আরো জানান আমি এই অফিসের সবার থেকে জুনিয়র বিষয়টির সঙ্গে তার জড়িতর বিষয়টি অস্বীকার করেন। মোস্তাফিজের নেওয়া প্রত্যয়নপত্র সম্পর্কে চাম্পাফুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন জানান এ ঘটনা সম্পর্কে আমার কোন কিছু জানা ছিল না। হঠাৎ করে এলজিডি অফিসের হিসাবরক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান এসে বলে উপজেলা স্যার এইটা সই করে দিতে বলেছেন। আমি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের কথা বললে সই করে দেই। পরবর্তীতে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে আমার দেওয়া প্রত্যায়ন পত্র প্রত্যাহার করে নতুন করে প্রত্যায়ন পত্র দিয়েছি। ঐ সময় ঐ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ ও একই কথা বলেন। তিনি জানান হিসাবরক্ষক মোস্তাফিজের তৈরি করা প্যাডে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার এবং অন্যান্য ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সচিবরা সই করেছে আপনি চেয়ারম্যানের নিকট থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে আমি আমার বক্তব্য ও প্রত্যয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছি। একইভাবে মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান ফিরদৌস মোড়ল জানান ঘুষ কেলেঙ্কারি বিষয়ে আমি কিছু জানতাম না হঠাৎ হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান এসে বললো উপজেলা প্রকৌশলী জাকির স্যার সই করে দিতে বলেছে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে জাকির সাহেবের নিকট জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করলে আমি আমার দেওয়া প্রত্যায়ন পত্র প্রত্যাহার করে নতুন প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেছি। একইভাবে ঐ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম একই কথা বলে তার দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন। কুশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোঃ আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা তবে স্বাক্ষর করানোর জন্য মোস্তাফিজ আমার নিকট এবং পরিষদে কয়েকবার এসেছে আমি তার দুর্নীতিতে সাপোর্ট করেনি। যে কারণে মোস্তাফিজের প্রত্যয়ন পত্রের প্যাডে আমি স্বাক্ষর করেনি এবং আমার অফিস থেকে কোন প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা হয়নি। উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) অফিসের উপ-সহকারী ইঞ্জিনিয়ার সাঈদ হোসেন জানান হিসাবরক্ষক মোস্তাফিজ যোগদান করতে না পারে সে ব্যাপারে আবেদনপত্রে আমি সহ অফিসের সবাই স্বাক্ষর করেছি। বিষয়টি নিয়ে মোস্তাফিজের লোকজন প্রতিনিয়ত মিথ্যা ,অপ্রচার চালাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) জাকির হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান অফিস ছাড়াও আমাকে সারাদিন বিভিন্ন প্রকল্পের সাইডের কাজ নিয়ে বাইরে ব্যস্ত থাকতে হয়। বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিজেরাই স্ট্যাম্প কিনে দিবেন এর বাইরে যদি কেউ অফিসে বসে কারোর নাম ভাঙিয়ে টাকা পয়সা নেয় সেজন্য সে নিজেই দায়ভার বহন করিবে আমি এর জন্য দায় নেব না। এর আগেও আমার নিকট থেকে মোস্তাফিজ সাংবাদিকদের নিকটে কথা বলতে বাধ্য করেছে অথচ আমি কিছু না জেনে সরল বিশ্বাসে যে কয়টি প্রকল্পের স্ট্যাম্পের টাকার কথা বলেছি। পরে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন খাতে ব্যবহার করা হয়েছে। কালিগঞ্জ এলজিইডি অফিসে মোস্তাফিজ চাকরি করাকালীন উপজেলা ডরমেটরিতে থাকলেও থাকার কোন অনুমতি গ্রহণ করেননি। তা ছাড়াও তিনি সেখানে যতদিন থেকেছেন তার কোন ভাড়া বাবদ কোন টাকা না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2024 Zahidit News
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT