কালীগঞ্জে আদম ব্যবসায়ী রাজাবাবুর খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব জাহাঙ্গীর পরিবার
হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের চালতে বাড়িযা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম নামে এক অসহায় ড্রাইভার মালদ্বীপ প্রবাসী আদম ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম ওরফে রাজা বাবুর খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে তার পুরো পরিবার। ভুক্তভোগীর দাবি প্রতারণা করে ভুয়া জাল ভিসায় তাকে মালদ্বীপে নিয়েই রাতারাতি লাপাত্তা হয়ে নিজে দেশে ফেরত চলে আসতে বাধ্য হয়েছে । এখানে তাকে কাজ না দিয়ে পালিয়ে ইমারত শ্রমিক হিসেবে ৩ মাস মানবতার জীবন যাপন শেষে অভিভাবকদের পাঠানো টাকায় দেশে ফেরত আসতে বাধ্য হয় । উক্ত ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ভাড়া শিমলা ইউনিয়নের চালতেবাড়ীয়া গ্রামের আদর আলী গাজী বাদী হয়ে গত ৫ এপ্রিল আদম বেপারী আসাদুল ইসলাম ওরফে রাজা বাবু ও তার পিতা মজিবর শেখ ও মাতা নাসিমা খাতুন কে আসামি করে প্রতারণার অভিযোগে সাতক্ষীরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং সি আর ৩০৪/২৬(কালিঃ)। মামলাটি ভাড়াসিমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। মামলার তদন্তের নোটিশ গত বুধবার আদম বেপারী আসাদুল ইসলাম ওরফে রাজা বাবু ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হয়ে জনসমক্ষে চেয়ারম্যানের সামনে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও অপর দুই আসামি তার বাবা মজিবর শেখ ও মাতা নাসিমা খাতুন হাজির হয়নি। যে কারণে পরবর্তী নোটিশে সোমবারে হাজির না হওয়ায় দেশ ছেড়ে পালানো নিয়ে শঙ্কা বিরাজ করছে। মামলার সূত্র ও ভুক্তভোগী ও তার বাবা আদর আলী, চাচা আনসার আলী সহ মারকা গ্রামের আজমির আলী গাজীসহ একাধিক ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানান আদম ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম ওরফে রাজা বাবু দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছে। পূর্ব পরিচয়ে মোটা অংকের টাকা বেতন দেওয়ার প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে তার বাবা মজিবর শেখ এবং মা নাসিমা খাতুনের নিকট ৫ লক্ষ টাকা দিতে বলে। আমরা তার কথামতো আদম ব্যবসায়ী রাজা বাবুর মা এবং বাবার নিকট সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা বুঝিয়ে দেই। পরবর্তীতে বিমানের টিকিটের নামে আরও ১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর ভুয়া ড্রাইভারি ভিসার মাধ্যমে গত ১/৬/২০২৫ ইং তারিখে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর বিমানযোগে মালদ্বীপ চলিয়া যান। এখানে একেবারে অজানা ,অচেনা জায়গায় আদম ব্যবসায়ী রাজাবাবু ঐ দিনেই বিমান যোগে বাংলাদেশে চলে আসে। যে কারণে। জাহাঙ্গীর দ্রুত বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরতে থাকে। সেখান থেকে আদম বেপারী আসাদুলের নিকট ফোনে কথা বললে তখন আসাদুল জাহাঙ্গীরকে এক দালালের নিকট বিক্রি করে দেয় । সেখানে মাঝেমধ্যে চুরি করে মাটির কাজ করে পরবর্তীতে বাড়ি থেকে তার বাবা অসহায় দিনমজুর আদর আলী ৫০ হাজার টাকা পাঠালে সে দেশে ফেরত এসে জীবনে রক্ষা পায়। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবার আদম ব্যবসায়ী আসাদুলের ওকে রাজাবাবুর নিকট টাকা ফেরত চাইলে তাল বাহানা করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে এ বিষয়টি নিয়ে প্রথমে ভুক্তভোগীর পিতা আদর আলী নলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট অভিযোগ দিলেও কোন কাজ হয়নি। পরবর্তীতে উপায়ান্তর না পেয়ে ভুক্তভোগীরা বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করে। আদম বেপারী আসাদুল দীর্ঘদিন যাবত মালদ্বীপে অবস্থান করে এলাকা থেকে বহু ছেলেকে মালদ্বীপে ভালো কাজের কথা বলে নিয়ে আটকে রেখে তাদের উপর মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে তার বিরুদ্ধে একাধিক পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে প্যানেল চেয়ারম্যান নিজামুদ্দিন ওই উপ সদস্য ডাঃ আব্দুল কাদের মসজিদের জানান তদন্তে তো দেখলেন আপনাদের সামনে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা নেওয়ার কথা নিজের মুখে স্বীকার করেছে। তবে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে কথার কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। আদম ব্যবসায়ী রাজা বাবু নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান আমি বৈধভাবে ভিসা দিয়ে সেখানে নিয়ে গিয়েছে তবে সে কাজ না করাত তাকে ফেরত আনা হয়েছে। তবে টাকা ফেরতের বিষয়ে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তবে এ ব্যাপারে নাম না প্রকাশ করার শর্তে একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার জানান আদম ব্যবসায়ী আসাদুলের মাধ্যমে আমাদের এলাকা থেকে অনেকে এখন মোটা অংকের টাকা দিয়ে মালদ্বীপে গিয়ে পলাতক ও মানবতার জীবন যাপন করছে। নির্যাতনের ভয়ে তারা কেউ মুখ না খুললেও আদম বেপারী আসাদুল বহাল তবিয়াদের আলিশান বাড়িতে ঘুরে বেড়ালেও দেখার কেউ নাই। ভুক্তভোগীরা এখন টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে।