1. admin@satkhira24tv.com : admin :
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সীমান্তে ২৮ বাংলাদেশিকে ‘পুশ-ইন’ করল বিএসএফ চাঁপাইনবাবগঞ্জে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পথচারীদের পানি, ছাতা ও হাতপাখা বিতরণ তাপপ্রবাহে স্তব্ধ দক্ষিণ অঞ্চল: ডুমুরিয়ায় জনজীবন ও কৃষিতে বড় সংকট সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে দিন দুপুরে লোহার গেট কেটে বাসায় ঢুকে স্বর্ণালংকার সহ নগদ টাকা লুট কালিগঞ্জে সু-সন্তান পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত কালিগঞ্জে জমি বিক্রির টাকা আত্মসাত” বসতভিটা দখলের চেষ্টা’থানায় লিখিত অভিযোগ কালিগঞ্জে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাননীয় এমপি মহোদয়ের ঈদ উপহার বিতরণ আমতলীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: চাকা ফেটে ব্রিজে ধাক্কা, প্রাণ গেল হেল্পারের নড়াইল জেলা এনসিপি’র আহবায়ক কমিটি গঠন কালিগঞ্জে সেচ মোটরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

তাপপ্রবাহে স্তব্ধ দক্ষিণ অঞ্চল: ডুমুরিয়ায় জনজীবন ও কৃষিতে বড় সংকট

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

, তাপপ্রবাহে স্তব্ধ দক্ষিণ অঞ্চল: ডুমুরিয়ায় জনজীবন ও কৃষিতে বড় সংকট

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা
বৃহস্পতিবার ৪জুন ২০২৬
টানা কয়েক দিনের তীব্র ও অতি তীব্র তাপপ্রবাহে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলাসহ সমগ্র দক্ষিণ অঞ্চলের জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র রোদের সাথে বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছে মানুষ। একদিকে মাঠের ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা, অন্যদিকে তীব্র গরমে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডায়রিয়া ও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকা রোগীর সংখ্যা। মাঠ প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও কৃষি বিভাগ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
কৃষিতে পানির সংকট ও ফসল রক্ষায় তৎপরতা
তীব্র তাপদাহের কারণে মাঠের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে খরিফ মৌসুমের সবজি ও বিভিন্ন ফসল রক্ষা করতে কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

হাসপাতালে রোগীর ভিড় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
প্রচণ্ড গরমের কারণে উপজেলাজুড়ে ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি, কাশি এবং বিশেষ করে শিশুদের মাঝে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তীব্র রোদে কাজ করতে গিয়ে অনেক শ্রমজীবী মানুষ হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিতে পড়ছেন।
সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কাজল মল্লিক বলেন,তীব্র গরমের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতায় আক্রান্ত রোগীর চাপ আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আমরা আউটডোর ও ইনডোরে চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত ওরস্যালাইন, আইভি ফ্লুইড এবং জরুরি ওষুধের মজুত নিশ্চিত করেছি। এই সময়ে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া সরাসরি রোদে না যাওয়ার, প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করার এবং বাসি-খোলা খাবার পরিহার করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।”
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল কবির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছেন।
তীব্র গরমে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিকে হিট স্ট্রোক এবং অন্যান্য রোগবালাই থেকে রক্ষা করতে তাঁর প্রধান পরামর্শগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রাণিসম্পদ রক্ষায় জরুরি পরামর্শ
পর্যাপ্ত সুপেয় পানি ও স্যালাইন: তীব্র গরমে খামারের পশু-পাখির শরীর দ্রুত জলশূন্য হয়ে পড়ে। তাই সার্বক্ষণিক ঠান্ডা ও বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে। পানির সাথে ভিটামিন-সি এবং ইলেকট্রোলাইট স্যালাইন মিশিয়ে খাওয়ালে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

বাসস্থান ও বাতাস চলাচল: খামারের ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ঘরের চাল বা ছাদে চট বিছিয়ে পানি ছিটিয়ে দেওয়া যেতে পারে। সিলিং ফ্যানের ব্যবস্থা রাখা এবং ঘরে যেন পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল (Ventilation) করতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

খাবারের সময় পরিবর্তন: দুপুরের তীব্র গরমের সময় গবাদিপশু বা হাঁস-মুরগিকে দানাদার বা ভারী খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সকালের ভোরে এবং সন্ধ্যার পর ঠান্ডা পরিবেশে খাবার দেওয়া উত্তম।

গোসল ও ঠান্ডা রাখা: দুপুরের আগেই গাভী বা মহিষকে ভালো করে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করিয়ে দিতে হবে। তবে প্রচণ্ড গরমে দুপুরের তপ্ত রোদে কোনোভাবেই পশুকে বাইরে বের করা বা মাঠে চরানো যাবে না।

ঘনত্ব কমানো: মুরগির খামারে (পল্ট্রি শেড) ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মুরগি রাখা যাবে না। ব্রয়লার বা লেয়ার মুরগির ক্ষেত্রে গরমে ঘরের মেঝেতে লিটারের (তুষ বা কাঠের গুঁড়ো) পুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দিতে হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বার্তা:

এই তীব্র তাপপ্রবাহে খামারিদের একটু বাড়তি সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই। যেকোনো পশুর অস্বাভাবিক আচরণ, অতিরিক্ত হাঁপানো বা অসুস্থতার লক্ষণ দেখামাত্রই বিলম্ব না করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর বা স্থানীয় ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
মাঠ প্রশাসনের নজরদারি ও সচেতনতা বৃদ্ধি
তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার বলেন,
“তীব্র তাপপ্রবাহের এই দুর্যোগে উপজেলার খেটে খাওয়া মানুষ এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে আমরা মাঠ পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছি। তীব্র রোদের সময় (বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত) অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হতে এবং বাইরে বের হলে ছাতা ও টুপি ব্যবহার করতে মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া হিট স্ট্রোক বা যেকোনো জরুরি স্বাস্থ্য সংকটে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কৃষি ও স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছি।”
আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বর্তমান অবস্থা
স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে গরমের অনুভূতি প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা না মেলা পর্যন্ত এই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা কম। তীব্র এই গরমে ডুমুরিয়ার সাধারণ মানুষ চাতক পাখির মতো মেঘের পানে চেয়ে আছেন—কখন নামবে স্বস্তির বৃষ্টি।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2024 Zahidit News
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT