কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে লবণ পানি তুলে বোরো ধানের বীজতলা নষ্টের অভিযোগ
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বেজুয়া মৌজায় রাতের আঁধারে স্যালো মেশিনের মাধ্যমে নোনা পানি তুলে বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক আলাউদ্দীন মোড়ল। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বেজুয়া মৌজায় প্রায় ৭.১৭ একর জমিতে বোরো ধান রোপণের উদ্দেশ্যে এক সপ্তাহ আগে বীজতলা প্রস্তুত করেন কৃষক আলাউদ্দীন মোড়ল। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে পরিকল্পিতভাবে পাশের একটি পুকুর থেকে স্যালো মেশিনের মাধ্যমে নোনা পানি তুলে তার বীজতলায় প্রবেশ করানো হয়। ফলে বীজতলা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়। ভুক্তভোগী কৃষক আলাউদ্দীন মোড়ল অভিযোগ করে জানান, বেজুয়া গ্রামের মৃত শেখ আমিন উদ্দিনের পুত্র ও সাবেক ইউপি সদস্য শেখ শফিকুল ইসলামের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, শফিকুল ইসলামের ভাই ও বোনদের কাছ থেকে তিন বছরের মেয়াদে ৭.১৭ একর জমি লিজ নিয়ে তিনি বৈধভাবে বোরো ধান চাষের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু বীজতলা নষ্ট হওয়ায় চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয়রা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন,ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কয়েক দিনের মধ্যেই বোরো ধানের চাষ শুরু হওয়ার কথা ছিল। একজন কৃষকের এমন ক্ষতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। স্থানীয়রা জানান, শেখ শফিকুল ইসলামের মৎস্য চাষের পুকুর থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি প্রবাহিত হয়ে বীজতলায় ঢুকে পড়েছিল। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় ওই পাইপের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিকে অভিযুক্ত শেখ শফিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই এবং এ সম্পর্কে কিছুই জানি না।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দ্রুত ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন