কালিগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের মামলা আদালতে” এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি
শিমুল হোসেন, কালিগঞ্জ সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফ।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও একাধিকবার হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক উজায়মারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে সরজমিনে ও মামলা সূত্রে জানা যায়” সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী আদালত (নং–০২)-এ কালিগঞ্জ উপজেলার গনপতি গ্রামের শেখ সিরাজুল ইসলাম-এর কন্যা মোছাঃ সিনা আক্তার (৩১) বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় স্বামী মোঃ মনিরুল আলম (৪০), তার ভাই খায়রুল ইসলাম (৪৫) ও ভাবি সপ্না খাতুন (৩৫)-সহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়,২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামী শরিয়ত ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে সিনা আক্তারের সঙ্গে মনিরুল আলমের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় অভিযুক্ত পক্ষ জোরপূর্বক নগদ টাকা, আসবাবপত্র,সেলাই মেশিন ,ধান ঝাড়ার মেশিন, একটি গরু ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার যৌতুক আদায় করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হলেও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বেড়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী,স্বামী মনিরুল আলম তার ভাই ও ভাবির প্ররোচনায় আরও ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে বাদীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন।
মামলার বর্ণনায় বলা হয়, চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল দুপুরে মনিরুল আলমের বসতবাড়িতে ৩ লাখ টাকা যৌতুক আনতে অস্বীকৃতি জানালে বাদীকে কাঠ ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সন্তানসহ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।পরবর্তীতে বাদীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়,গত( ৮ নভেম্বর) বাদীর পিত্রালয়ে মীমাংসার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক চলাকালে অভিযুক্তরা যৌতুক দাবি প্রত্যাহার না করে বরং পুনরায় মারধর ও হত্যার চেষ্টা চালায়। বাদীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বাদীর অভিযোগ, একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।মামলাটি ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত–২০০৩) এর ১১(খ), ১১(গ) ও ৩০ ধারায় দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনাধীন রেখেছেন বলে জানা গেছে।ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।