গণভোটে অজ্ঞতা চা-বাগান ও গ্রামজুড়ে: কমলগঞ্জের অধিকাংশ ভোটার জানেন না ‘হ্যাঁ–না’ ভোট কী
আব্দুল হামিদ, সিলেট ব্যুরো চিফ:-
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাংবিধানিক গণভোট। নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা কার্যক্রম শুরু হলেও তা কার্যত সীমাবদ্ধ রয়েছে জেলা শহরকেন্দ্রিক। এর ফলে কমলগঞ্জ উপজেলার ২২টি চা-বাগান ও গ্রামাঞ্চলের সাধারণ ভোটারদের বড় একটি অংশ এখনো জানেন না গণভোট কী, কিংবা কী বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর, কানিহাটি, মাধবপুর, আলীনগরসহ বিভিন্ন চা-বাগান এলাকায় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রচার থাকলেও গণভোট বিষয়ে কোনো কার্যকর প্রচারণা নেই। অনেক ভোটারই জানেন না সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি আলাদা একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
চা-বাগানের নারী ভোটার সুমী রানী রবিদাস, নাছরানা র্যালি ও নন্দিতা রবিদাস জানান, তাঁরা শুধু এমপি নির্বাচনের কথা শুনেছেন। গণভোট কী বা কী বিষয়ে ভোট দিতে হবে—এ বিষয়ে কেউ তাঁদের কিছু বলেননি। তাঁরা বলেন, “আমরা কখনো গণভোট দেইনি। ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের বিষয়টি কী, সেটাও জানি না। যাঁরা ভোট চাইতে এসেছেন, সবাই সংসদ নির্বাচনের কথাই বলেছেন।”
জানা গেছে, ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ স্লোগানে সাংবিধানিক গণভোটকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ডিজিটাল বিলবোর্ড ও ভোটের গাড়ির মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে এই প্রচারণা মূলত জেলা শহর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। মৌলভীবাজার শহরে ডিজিটাল বিলবোর্ড দেখা গেলেও উপজেলা কিংবা গ্রামাঞ্চলে ভোটের গাড়ি বা মাইকিং চোখে পড়েনি।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “এই প্রচারণা পিআইবি থেকে পরিচালিত হচ্ছে। যতটুকু জানি, এটি জেলা শহরেই সীমাবদ্ধ থাকবে, উপজেলা পর্যায়ে নয়।”
তবে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, “গণভোট নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা ও মাইকিং করা হবে। প্রতিটি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তারা নিজ নিজ ওয়ার্ডে গিয়ে ভোটারদের গণভোট বিষয়ে সচেতন করবেন।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, সময়মতো কার্যকর প্রচারণা না হলে চা শ্রমিক ও গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ গণভোটের গুরুত্ব না বুঝেই ভোট দিতে বাধ্য হবেন, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি করতে পারে।