মিয়ানমার সীমান্তের সংঘর্ষের আগুন টেকনাফে, গুলিতে নিহত শিশু
টেকনাফে তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক
তাহমিনা খান তন্নি টেককনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের প্রভাব এবার সরাসরি এসে পড়েছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদে। মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির ছোড়া গুলিতে টেকনাফ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় খেলতে থাকা এক শিশু নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তের ওপারে সংঘর্ষ চলাকালে ছোড়া একটি গুলি বাংলাদেশ অংশে এসে পড়ে একটি বসতবাড়ির উঠানে। এ সময় সেখানে খেলছিল ওই শিশু। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা টেকনাফে প্রধান সড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ সৃষ্টি করেন। অবরোধের ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়ানমার সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে গোলাগুলি ও মর্টার শেল পড়ার ঘটনা ঘটলেও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়নি। এতে সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের জীবন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তারা অবিলম্বে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও এ ধরনের ঘটনার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় বারবার প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—আর কত প্রাণ গেলে সীমান্তে কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে?