সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস: নাগেশ্বরীতে বিএনপি নেতাসহ ১১ জন আটক
উপজেলা প্রতিনিধি | নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে এক বিএনপি নেতাসহ সংঘবদ্ধ প্রশ্নফাঁস চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটকদের মধ্যে প্রকৃত পরীক্ষার্থী ও ভুয়া পরীক্ষার্থী (প্রক্সি) রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) পরীক্ষা শুরুর আগেই নাগেশ্বরী উপজেলার শহরের কাজি মার্কেটের পেছনের একটি বাসা ও থানা এলাকার সামনে পৃথক দুটি অভিযানে তাদের আটক করা হয়। অভিযানের সময় প্রশ্নপত্রের ফটোকপি, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান জানান, দুপুরে কাজি মার্কেটের পেছনের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে সেচ্ছাসেবক দল নেতা মিনারুল ইসলামসহ ৬ জনকে আটক করা হয়। তারা প্রশ্নপত্রের ফটোকপি নিয়ে উত্তরপত্র প্রস্তুত করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন প্রশ্নফাঁস চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।
আটক মিনারুল ইসলাম উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে।
এছাড়া পৃথক অভিযানে থানার সামনে একটি গাড়ির গতিরোধ করে চালকসহ আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, তারা প্রশ্নপত্রের ফটোকপি ও ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। এদের মধ্যেও প্রকৃত ও ভুয়া পরীক্ষার্থী রয়েছে।
তবে উদ্ধার হওয়া প্রশ্নপত্রের ফটোকপির সঙ্গে পরীক্ষায় ব্যবহৃত প্রশ্নপত্রের মিল রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন কুড়িগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি। তিনি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পুলিশ সুপার বলেন, “আটকদের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও প্রক্সি পরীক্ষার্থী রয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “আটক মিনারুল ইসলাম আমাদের কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আরও তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।